ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্য না হয়েও দুইজনা মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী নতুন এই মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে আলোচনায় আছে সংসদ সদস্য না হয়েও কীভাবে কেউ মন্ত্রী হন?
কেউ কেউ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য না হলেও প্রধানমন্ত্রী সুপারিশে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তাদেরকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়। সাধারণত বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাদের নিয়োগ দেন। অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র বা স্বাস্থ্যখাতের মতো জটিল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়োগ বেশি দেখা যায়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংসদ সদস্য হওয়ার সব সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আইনগতভাবে অযোগ্য হতেন না।
নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট যারা
৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন পূর্ণ মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও ড. খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন
হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ড. খলিলুর রহমান
খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আমিনুল হক
আমিনুল হক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।