বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে নারী সরকারপ্রধান থাকলেও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন এখনো আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘উইমেন ইন ডেমোক্রেসি’ (উইন্ড) আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান, দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সেখানে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আলোচনায় উঠে আসা নারী নেতৃত্বের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন তিনি।
জাইমা রহমানের স্ট্যাটাসটির মূল বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
জাইমা রহমান লেখেন, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে কেবল নারী প্রধানমন্ত্রীরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তা সত্ত্বেও রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায়ন এখনো অনেক পিছিয়ে। এই বৈপরীত্য আমাদের সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, রাজনীতি এখনো নারীদের জন্য অন্যতম একটি বর্জনমূলক ক্ষেত্র। এটি নারীদের যোগ্যতার অভাবের কারণে নয়, বরং বর্তমান ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি যা নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করে না।
নারীদের জনজীবনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক নারী জনজীবনে তাদের অধিকার ও জায়গা হারানোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি এবং ‘নৈতিক’ পুলিশিংয়ের (Moral Policing) মাধ্যমে সুকৌশলে নারীদের রাজনীতি ও জনজীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জাইমা রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র কেবল প্রতীকি উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন নারীর প্রকৃত কর্তৃত্ব, নিরাপত্তা এবং নেতৃত্বের সুযোগ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীরা যখন বিভিন্ন মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে, তখনই তারা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নারীরা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি স্মরণ করেন।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যখন নারীদের জনজীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল বা টেকসই হতে পারে না।