জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে বন্দর ইজারা, সমরাস্ত্র আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন ‘অধীনতামূলক’ চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অতি-তৎপরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ বুধবার (৪ জানুয়ারি) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার জনস্বার্থ রক্ষা না করে উল্টো দেশকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সরকারের স্বচ্ছতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর মুখোশ পরিয়ে এই সরকারে ইউনূস সাহেব প্রকৃতপক্ষে কতিপয় বিদেশি কোম্পানি এবং বিদেশি রাষ্ট্রের লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।
তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা এসব লবিস্টরা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কেন তারা এই কাজ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর পেছনে কোনো ‘আগাম কমিশন’ ভোগ, বিদেশের নাগরিকত্ব হারানোর ভয় কিংবা কারও কাছে ‘দাসখত’ দেওয়ার বিষয় জড়িত থাকতে পারে।
দেশের বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও কেন এসব চুক্তি করা হচ্ছে, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি তিনটি প্রধান দিক তুলে ধরেন। প্রথমত, এসব চুক্তি করা হচ্ছে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতা ও নিয়মবহির্ভূতভাবে। দ্বিতীয়ত, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল বিগত আমলের জনস্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা, সেখানে তারা উল্টো নতুন নতুন চুক্তির বোঝা চাপাচ্ছে। তৃতীয়ত, এর ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরাধীনতা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির আবর্তে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের সম্মতিহীন এসব চুক্তির কোনো আইনি বা নৈতিক বৈধতা থাকবে না। তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ও কিসের বিনিময়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো করছে, তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং এর মধ্যে যারা দায়ী, তাদের বিচারের সম্মুখীন করা।
একইসাথে তিনি দাবি জানান, এই বিতর্কিত চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে বিচার এড়াতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, তা এখনই নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে এসব দীর্ঘমেয়াদী ও কৌশলগত চুক্তি সই করার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, তা নিয়ে এখন সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।